মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
কষ্ট পেরিয়ে পালমারের ফুটবল যাত্রা অনুপ্রেরণার গল্প!
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের দহনশীল তাপমাত্রার মধ্যেও শীতল প্রতিভার ছোঁয়া ছড়িয়ে দিলেন পালমার। অবিচল মনোবল ও অনবদ্য পারফরম্যান্সে প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে ‘কোল্ড পালমার’ বলা হয়। মাত্র ২৩ বছর বয়সে এই ইংলিশ মিডফিল্ডার দেখিয়েছেন, ধৈর্য আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কিভাবে সফলতার শিখরে ওঠা যায়।
১৬ বছর বয়সে ম্যানচেস্টার সিটির ইয়ুথ একাডেমিতে পা রেখেছিলেন তিনি। প্রিয় ক্লাবের হয়ে সাফল্য ছুঁইয়ে দিতে চেয়েছিলেন মাঠে, কিন্তু যথাযথ সুযোগ না পেয়ে কষ্টসাধ্য সময় পার করতে হয়েছে। যেখানে তার সঙ্গীরা অনূর্ধ্ব-২১ দলে নিয়মিত খেলছিল, পালমার তখন অনূর্ধ্ব-১৮ দলে আটকে ছিলেন। পরে মূল দলে উঠলেও মাহারেজ, ডি ব্রুইনাদের মতো তারকাদের ছায়ায় স্থান পেতে পারেননি।
তবুও হাল ছাড়েননি। সীমিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। গার্দিওলার অধীনে পাঁচ সিজনে মাত্র ৪১ ম্যাচ খেলার পরেও আত্মবিশ্বাস হারাননি। মাহারেজের যাওয়া হলে সুযোগ পাবেন বলে আশ্বাস পান, কিন্তু এবার নিজে নিয়েছিলেন সিদ্ধান্ত। নিয়মিত খেলতে চেয়ে চলে আসেন চেলসিতে।
চেলসিতে যোগ দেওয়ার সময় ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগে নিচের দিকে ছিল, টেবিলের ১২তম অবস্থানে। কিন্তু পালমারের জাদুতে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে সবকিছু। ৪৩ গোল ও ২৯ অ্যাসিস্ট দিয়ে দলের অসামান্য অবদান রেখেছেন। ব্যর্থতা ও প্রত্যাখ্যানকে উড়িয়ে দিয়ে আজ বিশ্ব ফুটবলের একজন উজ্জ্বল তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই তরুণ। গল্পটা কি কোনো কিংবদন্তির সঙ্গে মিল পাচ্ছেন?
জি, ডি ব্রুইনাও ছিলেন চেলসি রিজেক্ট, পরে সিটিতে এসে হয়ে গেছেন প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা ফুটবলার। পালমারও কি এগোচ্ছেন সেদিকেই? পিএসজি দলটা ছিল অপ্রতিরোধ্য, একটা সিস্টেম। একটা সিস্টেমিক মেশিনকে ভাঙতে প্রয়োজন ইন্ডিভিজুয়াল ব্রিলিয়ান্স। এনরিকের মেশিনের সামনে এবার পড়েছিল এক উদ্যমী, রগচটা, রিজেক্টেড এক ম্যাজিকম্যান।
পিএসজিকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলে দিলেন, দুমড়েমুচড়ে দিলেন পিএসজির দম্ভ। অথচ এখনো ম্যানসিটিতে পড়ে থাকলে হয়তো এসবের কিছুই করা হতো না তার। তাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে মূল্যায়ন নেই সেটা যত বড় বা পারফর্মিংয়ের জায়গাই হোক না কেন, নিজের ভালোর জন্য কখনো কখনো সরে দাঁড়ানোটাই সেরা সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়। হোক সেটা প্রেম, ভালোবাসা, আবেগ বা কর্মস্থল। ২৩ বছরের পালমারই যেন সেটাই আরও একবার শিখিয়ে গেলেন পুরো বিশ্বকে।